সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:২৪ পূর্বাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।
শিরোনাম :
আরব দেশগুলোতে কি প্রভাব হারাচ্ছেন ট্রাম্প “বাংলাদেশের দাপটে নতজানু মালয়েশিয়া” “আধুনিক কৃষি ও বাজার ব্যবস্থার উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান” টেস্ট ক্রিকেট তুমি সুন্দর, বাংলাদেশ জিতলে আরও সুন্দর: মাশরাফি ১০ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশের তথ্য ঠিক নয়, বেশিরভাগ বাঙালি: মিয়ানমার দোকানের টাকা চাওয়ায় বাংলাদেশি যুবককে গুলি করলো এক রোহিঙ্গা রোহিঙ্গা যুবকের জালিয়াতিতে মৃত্যুদণ্ড সোনা মিয়ার, কারামুক্ত হয়ে বললেন ‘জীবনটা নরক হয়ে গেছে’ যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে লেবাননে ইসরায়েলি হামলা, নিহত ৭ বিএনপির মহাসচিবের পদ ছাড়লেন মির্জা ফখরুল বাংলাদেশের বিপক্ষে আর কখনও এত কম রানে অলআউট হয়নি অস্ট্রেলিয়া

সেনা অভ্যুত্থানের ফলে জন্মভূমিতে ফেরার আশা হারাচ্ছেন রোহিঙ্গারা

রোহিঙ্গা, ফাইল ছবি

দেলোয়ার হোসাইন টিসু, উখিয়া:

মায়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থান এর ফলে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার আশা হারাতে বসেছে রোহিঙ্গারা। মায়ানমারে ১ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) অং সান সুচি এবং অন্য রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেফতার করে সেনাবাহিনি দেশ পরিচালনা তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।

এই বিষয়ে কক্সবাজারের উখিয়া শরণার্থী শিবিরে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের কাছে তাদের বর্তমান অনুভূতি জানতে চাইলে বালুখালী ক্যাম্প-১,সি বল্ক এর হামিদুর রহমান (৭০) নামের একজন বলেন, মায়ানমার মিলিটারির নির্যাতনের মুখে আমরা ২০১৭ সালে বাংলাদেশে পালিয়ে এসে আশ্রয় নিই। বাংলাদেশ সরকার নানা বৈঠকে আমাদের রোহিঙ্গা গোষ্ঠীকে নিজ দেশ মায়ানমারে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার আবেদন জানালেও প্রতিবার মায়ানমার সরকার তা না করে দেয়। সম্প্রতি সময়ে আমরা শুনতে পেয়েছিলাম মায়ানমার সরকার কিছু রোহিঙ্গা ফিরিয়ে নিয়ে যাবে। এ রকম খবর শুনে আমাদের মনে আবার নিজ দেশে ফিরতে পারার খুশি জন্মেছিল। কিন্তু হঠাত শুনতে পাই মায়ানমার সেনাবাহিনী অং সান সূচি সহ বেশকজন বড় নেতাকে আটক করেছে। তখন থেকে দেশে ফেরার আশা আবার হারাতে বসেছি। কারণ দীর্ঘদিন ধরে বার্মা সেনাবাহিনী আমাদের উপর নির্যাতন করে আসছে, শেষ পর্যন্ত দেশ থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। আবার এখন তাদের হাতে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব। তাই আমরা দেশে ফিরে যাওয়া অনিশ্চিত মনে করছি। যে দেশের সেনার হাতে সরকার নিরাপদ নয় সেখানে আমরা কিভাবে নিরাপদ থাকব।

রোহিঙ্গা মাঝি আইয়ুবুল ইসলাম (৪৬) বলেন, সহায় সম্পদ সব হারিয়ে প্রানে বাঁচার জন্য বউ-বাচ্চা নিয়ে বাংলাদেশ আশ্রয় নিয়েছি। বাংলাদেশ সরকার আমাদের আশ্রয় দিয়েছে তাই সরকারকে বার বার শুকুরিয়া জানাই। আমরা সরকারের জন্য মসজিদে নামাজ পড়ে দোয়া করি। গত দুয়েকদিন ধরে আমরা টিভিতে বার্মা সরকারে আটক হওয়ার খবর শুনতে পাচ্ছি। আমরা জানিনা দেশে কি হচ্ছে। কোন দিকে যাচ্ছে আমাদের ভাগ্য। বাংলাদেশ সরকার যেহেতু আমাদের আশ্রয় দিয়েছে তাই বর্তমানে তারা আমাদের অভিবাদক, তারা আমাদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করে আমাদের দেশে ফিরিয়ে যাওয়ার ব্যবস্হা করে দেবে বলে আশা রাখি।

আয়াছ নামের এক তরুণ বলেন, সূচী সরকারকে গ্রেফতারের কারণে আমাদের প্রত্যাবাসনের বিষয়টা জটিল হবে বলে মনে হচ্ছে। বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্ব নেতাদের সহযোগিতা ছাড়া আমাদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়া সম্ভব নয়। বিভিন্ন ভাবে আমরা দেখতে পাচ্ছি বাংলাদেশ সরকার বার বার চেষ্টা করছে আমাদের দেশে ফিরে যাওয়ার ব্যবস্হা করতে। বিশ্ব নেতাদের প্রতি আহবান জানাব আমাদের নিজ জন্মভূমিতে ফিরে যেতে পারিমত যাতে বাংলাদেশ সরকারকে সহযোগিতা করে। মায়ানমার দেশ পরিচালকরা যেন আমাদের নাগরিকত্ব দেয়। আমাদের বসবাস করার ব্যবস্হা করে দেয় আর যেন আমাদের নির্যাতন না করে।

উল্লেখ্য, ১ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) সকালে অং সাং সু চি এবং অন্য রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেফতার করার পর মায়ানমার সেনা বাহিনী দেশটি তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। বিতর্কিত একটি নির্বাচন নিয়ে বেসামরিক সরকার ও সামরিক বাহিনীর মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার পর এই অভ্যুত্থান ঘটলো। গ্রেফতারের পর মিলিটারি টিভি নিশ্চিত করে যে, দেশটিতে এক বছরের জরুরী অবস্থা জারি করা হয়েছে। গত বছর নভেম্বরের নির্বাচনে অং সান সুচির এনএলডি সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। কিন্তু সেনাবাহিনী নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ তোলে। সোমবার সামরিক বাহিনী জানায়, তারা ক্ষমতা কমান্ডার-ইন-চিফ মিন অং লাইংয়ের কাছে হস্তান্তর করছে। মিয়ানমার বার্মা নামেও পরিচিত যা ২০১১ পর্যন্ত শাসন করেছে সামরিক বাহিনী। মিস সু চি অনেক বছর ধরে গৃহবন্দী ছিলেন।

ভয়েস/জেইউ।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023
Developed by : JM IT SOLUTION